AI যখন ইনফারেন্স-কেন্দ্রিক যুগে ঢুকছে, তখন জেতা-হারার মাপকাঠি আর শুধু চিপের পিক স্পেক নয়—বরং মোট খরচে বাস্তবে কতটা “ডেলিভারেবল ইন্টেলিজেন্স” বের করা যায়। আজকের তিনটি খবরই সেই সিস্টেম-রিয়ালিটি দেখায়।

1. Signal65 রিপোর্ট: ২০২৫ Q4 বেনচমার্ক অনুযায়ী NVIDIA-এর AI প্ল্যাটফর্ম “প্রতি ডলার” পারফরম্যান্সে AMD-এর তুলনায় ১৫×।
মন্তব্য:
“প্রতি ডলার ১৫×” আসলে TCO (Total Cost of Ownership) ভিত্তিক ভ্যালু-ক্লেইম—শুধু পিক কম্পিউট তুলনা নয়। যদি Signal65-এর বাস্তব ওয়ার্কলোড/কনফিগে এই ফল টিকে থাকে, NVIDIA-এর বাড়তি সুবিধা সম্ভবত সফটওয়্যার স্ট্যাক ও সিস্টেম-ইন্টিগ্রেশন থেকে আসে।
এটি নিছক প্রশংসা নয়—বাস্তব ওয়ার্কলোড ডেটা দেখায়, ইনফারেন্স যুগে প্রতিযোগিতা “চিপের যুদ্ধ” থেকে “সিস্টেমের যুদ্ধ”-এ চলে গেছে। এক দশকের ফুল-স্ট্যাক অভিজ্ঞতায় NVIDIA “প্রতি ডলার বুদ্ধিমত্তা আউটপুট” এই চূড়ান্ত মেট্রিকে প্রায় প্রজন্মগত লিড তৈরি করেছে।
তবু এই সংখ্যা স্থির নয়। ওয়ার্কলোড, কম্পাইলার/কের্নেল কভারেজ, নেটওয়ার্ক/স্টোরেজ বটলনেক বা ডেপ্লয়মেন্ট প্যাটার্ন বদলালেই মাল্টিপ্লায়ার বদলাতে পারে। মূল নজর দেওয়া উচিত ট্রেন্ডে: কে ধারাবাহিকভাবে সিস্টেম-ফ্রিকশন কমাচ্ছে।
2. মেমরি দামের বড় উল্লম্ফনের কারণে NVIDIA ও AMD ধাপে ধাপে GPU দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে; ট্রেন্ডটি বছরজুড়ে থাকতে পারে।
মন্তব্য:
এটি স্বল্পমেয়াদি অস্থিরতার চেয়ে বেশি কাঠামোগত কস্ট-পাসথ্রু, যা সাপ্লাই-ডিমান্ড অসমতা থেকে আসে। AI তরঙ্গে আপস্ট্রিম বাধা (মেমরি, প্যাকেজিং, ক্যাপাসিটি) শেষ পর্যন্ত ASP বৃদ্ধি, কোটা, বান্ডলিং ও ডেলিভারি প্রাধান্য হিসেবে গ্রাহকের কাছে ফিরে আসে।
দুই কোম্পানিই “এক ধাক্কায়” নয়—পণ্যভিত্তিক পার্থক্য রেখে ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে। NVIDIA-এর দরকষাকষির শক্তি বেশি: ডিমান্ড স্টিকি, ইকোসিস্টেম লক-ইন শক্ত, এবং গ্রাহক “ডেলিভারেবল কম্পিউট”কে বেশি গুরুত্ব দেয়। ফলে দাম বাড়লেও ডিমান্ড ক্ষতিগ্রস্ত নাও হতে পারে; মার্জিন রক্ষা/বৃদ্ধি সম্ভব।
AMD-এর জন্য, ডেটা সেন্টার GPU-তে এখনও ক্যাচ-আপ পর্যায়ে, দাম একদিকে অস্ত্র, অন্যদিকে বাধা। খুব দ্রুত দাম বাড়ালে “ভ্যালু” ন্যারেটিভ দুর্বল হতে পারে।
3. বিক্রি দুর্বল হওয়ায় Apple Vision Pro-এর উৎপাদন ও মার্কেটিং কমিয়েছে।
মন্তব্য:
২০২৪ শুরুর লঞ্চের পর Vision Pro “ইঞ্জিনিয়ারিং মিরাকল” হিসেবে প্রশংসিত হলেও বাজারের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাশার চেয়ে কম। এটি প্রথম-জেনারেশন প্ল্যাটফর্ম পণ্য: দাম বেশি, সাপ্লাই চেইন জটিল, অ্যাপ ইকোসিস্টেম অপরিণত। ভলিউম না হলে Apple-এর যৌক্তিক পদক্ষেপ হলো “পুশ সেলস” থেকে সরে এসে অভিজ্ঞতা ও ইকোসিস্টেম ঘষেমেজে নেওয়া, চ্যানেল/মার্কেটিং খরচের অপচয় কমানো, এবং পরের প্রজন্মের (হালকা, সস্তা, বেশি ব্যাটারি) জন্য জায়গা রাখা।
আসল গেম-চেঞ্জার হবে সবচেয়ে শক্তিশালী হেডসেট নয়, বরং এমন AI চশমা যা মানুষ প্রতিদিন পরতে চাইবে। তার আগে Vision Pro থাকবে ব্যয়বহুল কিন্তু মূল্যবান “টেক-প্রোব”।
সমাপ্তি:
তিনটি খবর মিলিয়ে বোঝা যায়—সিস্টেম-লেভেল দক্ষতা, সাপ্লাই-চেইন কস্ট রি-অ্যালোকেশন, আর কনজিউমার ডিভাইসে “ডেইলি-ওয়্যার” অভ্যাসই আসল ফিল্টার। ২০২৬ এবং পরেও পার্থক্য তৈরি করবে ধারাবাহিক সিস্টেম উন্নতি।
গত ৭২ ঘণ্টার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ AI ঘটনা: